আইএলটিএস ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট ছাড়াই রোমানিয়া ওয়ার্ক পারমিট!
কোনো আইএলটিএস (IELTS) বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট ছাড়াই কি ইউরোপের মাটিতে পা রাখা সম্ভব? ২০২৬ সালে মাত্র ৪টি প্রয়োজনীয় কাগজে কীভাবে রোমানিয়ার কাজ ও স্থায়ী বাসস্থানের সুযোগ পাওয়া যায় সেই বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন তানজিল আহমেদ জনি।
রোমানিয়া কেন সেরা সুযোগ?
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) অন্যতম সদস্য দেশ হলো রোমানিয়া। বর্তমানে দেশটিতে কনস্ট্রাকশন, ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাক্টরি ও হসপিটালিটি সেক্টরে ব্যাপক কর্মী সংকট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে খুব সহজেই আইএলটিএস, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা পূর্বে চাকরির অফার ছাড়াই রোমানিয়া ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করা যায়।
চাকরি খোঁজার ৫টি সম্পূর্ণ ফ্রী অনলাইন প্ল্যাটফর্ম:
সরাসরি এম্বাসিতে গিয়ে ওয়ার্ক পারমিট চাওয়া যায় না; রোমানিয়ার নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় এমপ্লয়ারকে সরকারি ইমিগ্রেশন অফিসে আবেদনের প্রক্রিয়াটি শুরু করতে হয়। ঘরে বসেই যে ৫টি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে সিভি জমা দেওয়া যায়সেগুলো হচ্ছে:
e-Jobs: রোমানিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন জব পোর্টাল, যেখানে কনস্ট্রাকশন, ড্রাইভ অ্যান্ড ফ্যাক্টরি কাজের প্রচুর সার্কুলার থাকে।
BestJobs: বিদেশি কর্মীদের নিয়োগে এমপ্লয়ারদের প্রিয় প্ল্যাটফর্ম।
SimplyHired / Job Portals (r.com): খুব সহজেই সব ধরনের কাজের তালিকা পাওয়ার মাধ্যম।
LinkedIn / Munka.ro: স্থানীয় রোমানিয়ান এমপ্লয়ারদের সরাসরি সার্কুলার দেওয়ার জায়গা।
OLX Romania: রোমানিয়ার জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রচুর কাজের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থাকে।
রোমানিয়া ওয়ার্ক পারমিটের জন্য প্রয়োজনীয় ৪টি কাগজ:
এমপ্লয়ার আপনার কাজের জন্য রাজী হলে আপনাকে মূলত মাত্র ৪টি মূল কাগজ জমা দিতে হবে:
ভ্যালিড পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামুলক।
ওয়ার্ক কন্ট্রাক্ট (Work Contract): রোমানিয়ান এমপ্লয়ারের সাথে চাকরির অফিসিয়াল চুক্তিপত্র।
মেডিকেল সার্টিফিকেট: সুস্থতার সনদপত্র বা ডাক্তারী রিপোর্ট।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স: স্থানীয় থানা থেকে নেওয়া অপরাধমুক্ত থাকার সনদ (পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট)।
আবেদন প্রক্রিয়া ও ভিসা সময়সীমা:
আইজিআই (IGI) অনুমোদন: আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়ার পর এমপ্লয়ার রোমানিয়ার ইমিগ্রেশন অফিসে (IGI) জমা দেয়, যা অনুমোদন হতে ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে।
Type-D ভিসা: ওয়ার্ক পারমিট হাতে পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে রোমানিয়ান এম্বাসি থেকে Type-D ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। ভিসা প্রসেস হতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে।
রেসিডেন্সি, পরিবার, পারমানেন্ট রেসিডেন্সি (PR) ও নাগরিকত্ব:
রেসিডেন্স পারমিট: রোমানিয়ায় পৌঁছানোর ৩০ দিনের মধ্যে রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে হয়, যা অফিশিয়াল আইডি বা রেসিডেন্স কার্ড হিসেবে কাজ করে।
পরিবার নিয়ে যাওয়া: রেসিডেন্সি পাওয়ার পর স্ত্রী ও সন্তানদের রোমানিয়াতে নিয়ে যাওয়া যায়। সন্তানদের জন্য ইউরোপের সরকারি স্কুলে পড়ালেখা সম্পূর্ণ ফ্রী।
পারমানেন্ট রেসিডেন্সি (PR): টানা ৫ বছর আইনসম্মতভাবে কাজ ও বসবাস করলে পারমানেন্ট রেসিডেন্সি বা চিরকালের জন্য থাকার অধিকার মিলবে।
সিটিজেনশিপ ও পাসপোর্ট: মোট ৮ বছর থাকার পর রোমানিয়ার নাগরিকত্ব ও শক্তিশালী পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যায়, যা দিয়ে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বহু দেশে ভিসা-ফ্রি যাতায়াত করা যায়।
যা অবশ্যবই মনে রাখতে হবে:
ওয়ার্ক কন্ট্রাক্ট করার সময় খেয়াল রাখুন স্যালারি যেন রোমানিয়ার সরকারি ন্যূনতম বেতনের (Minimum Wage) কম না হয়; কম হলে ৯৫% ভিসা রিজেক্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বেসিক রোমানিয়ান ভাষা শিখে রাখুন, যা কর্মক্ষেত্রে প্রমোশন পেতে সাহায্য করবেএবং রোমানিয়া পৌঁছানোর ৩০ দিনের মধ্যে অবশ্যই রেসিডেন্সি পারমিটের আবেদন সম্পন্ন করুন। নিয়মকানুন পরিবর্তনশীল হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সবসময় রোমানিয়ান এম্বাসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য সিজে কিংবা ভালো কোনো পরামর্শকের মাধ্যমে যাচাই করে নিতে হবে।
তানজিল আহমেদ জনি/ প্রবাস / ১৫ মে ২০২৬
