কানাডার বিকল্প সেশেলস: ১৬৩ দেশের পাসপোর্ট!

কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার কঠিন পয়েন্ট সিস্টেম এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ধারাবাহিক ভিসা রিজেকশনের মুখে হতাশ বাংলাদেশি মধ্যবিত্তের জন্য বিকল্প সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিচ্ছে ভারত মহাসাগরের অপরূপ দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলস।

কোনো এম্বেসির জটিলতা, আইইএলটিএস (IELTS), কিংবা বিশাল ব্যাংক ব্যালেন্স ছাড়াই একজন স্বাধীন উদ্যোক্তা হিসেবে কীভাবে সেশেলসে স্থায়ী আবাসন (PR) এবং ১৬৩টি দেশে ভিসামুক্ত যাতায়াতের ক্ষমতা সম্পন্ন শক্তিশালী পাসপোর্ট অর্জন করা সম্ভব সেই বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন তানজিল আহমেদ জনি।

বর্তমান অভিবাসন বাস্তবতা ও সেশেলসের উত্থান

বাংলাদেশি পাসপোর্টের মাধ্যমে বর্তমানে মাত্র ৪০টি দেশে ভিসা ছাড়া বা অন-এরাইভালে ভ্রমণ করা যায়। ইউরোপের ভিসা রিজেকশন রেট অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং কানাডা বা অস্ট্রেলিয়াতে পিআর (PR) পেতে পাঁচ থেকে সাত বছর সময় লাগার পাশাপাশি আইইএলটিএস ও পয়েন্টের কঠিন শর্ত পূরণ করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগরের ১১৫টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত আফ্রিকা মহাদেশের দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলস একটি বৈধ, সৎ ও বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।

জীবনযাত্রার মান ও সেশেলসের সুবিধা

মাহে, প্রাসলিন ও লা দিগ-এর মতো দ্বীপে ঘেরা এই দেশটি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, বরং এখানে রয়েছে ব্রিটিশ ধাঁচের স্বচ্ছ আইন ব্যবস্থা।

সর্বোচ্চ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা: এটি আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) সমৃদ্ধ দেশ, যেখানে অপরাধের হার অত্যন্ত কম এবং পরিবেশ নিরাপদ।

ভাষাগত সুবিধা: সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাষা ইংরেজি হওয়ায় কোনো ভাষাগত জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় না।

বিনামূল্যে মৌলিক সেবা: অধিবাসী ও নাগরিকরা সরকারি বিনামূল্যে শিক্ষা ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন।

বাংলাদেশিদের জন্য অন-এরাইভাল ভিসা ও ভ্রমণের উপায়

সেশেলস সরকার উদ্যোক্তাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে আহ্বান জানাচ্ছে। বাংলাদেশিদের জন্য এখানে রয়েছে ভিসা অন-এরাইভাল (Visa-on-Arrival) সুবিধা, অর্থাৎ কোনো আগাম এম্বেসি ইন্টারভিউ, প্রাক-অনুমোদন, আইইএলটিএস, জব অফার বা বিশাল ব্যাংক ব্যালেন্সের প্রয়োজন হয় না।

ভ্রমণ রুট: ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে সেশেলসের মাহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানো যায়। এমিরেটস এয়ারলাইন্স প্রতিদিন দুইবার এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

ট্রানজিট সুবিধা: দুবাই বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক এয়ারসাইড ট্রানজিটে বাংলাদেশিদের জন্য কোনো ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন নেই, তবে পুরো যাত্রাটি একটি সিঙ্গেল পিএনআর (Single PNR) বা একই টিকিটে বুক করতে হবে। ঢাকা থেকে পৌঁছাতে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময় লাগে।

বিমান টিকিটের খরচ (২০২৬ সালের ডেটা অনুযায়ী): একমুখী (One-way) টিকিটের দাম প্রায় ৫৮,০০০ থেকে ৯০,০০০ টাকা এবং দ্বিমুখী (Return) টিকিটের দাম ১,৪০,০০০ থেকে ২,১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত মার্চ মাসে এবং সোম বা মঙ্গলবার টিকিট বুক করলে খরচ অনেকটাই কম হয়।

পিআর (PR) ও নাগরিকত্ব পাওয়ার ধাপসমূহ

সেশেলসে ব্যবসায়িক ভিসা ও অবস্থানের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব:

স্থায়ী আবাসন বা পিআর: সেশেলসে টানা ৫ বছর বৈধভাবে অবস্থান ও ব্যবসা পরিচালনা করলে পারমানেন্ট রেসিডেন্সির (PR) সমতুল্য মর্যাদা পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে পরিবারকে সঙ্গে রাখা, সন্তানদের বিনামূল্যে সরকারি শিক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া এবং স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ মেলে।

নাগরিকত্ব: টানা ১১ বছর অবস্থানের পর স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় সেশেলসের পূর্ণ নাগরিকত্ব লাভ করা যায়।

পাসপোর্টের ক্ষমতা: সেশেলসের পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের ১৬৩টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যায়।

কর ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য ব্যবসার খাত

সেশেলসের কর কাঠামো উদ্যোক্তাবান্ধব:

ট্যাক্স সুবিধা: করপোরেট ট্যাক্স ২৫% হলেও কোনো ওয়েলথ ট্যাক্স (Wealth Tax), ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স (Inheritance Tax) কিংবা ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (Capital Gains Tax) নেই।

উন্মুক্ত খাতসমূহ: পর্যটন, হালাল ফুড এবং এশিয়ান মুদি দোকানসহ বেশ কিছু খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ভালো সুযোগ রয়েছে।

ব্যবসায়িক সাফল্য ও সরকারি সহায়তার ‘প্রো-টিপস’

এসআইবি (SIB) এনডোর্সমেন্ট: সেশেলস ইনভেস্টমেন্ট বোর্ড (Seychelles Investment Board – SIB) একটি সরকারি সংস্থা, যা বিনামূল্যে বিজনেস পরামর্শ দেয়। দেশটিতে যাওয়ার আগেই ইমেইলে বিজনেস প্ল্যান পাঠালে তারা এনডোর্সমেন্ট লেটার দেয়, যা জিওপি (GOP – Gainful Occupation Permit) পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর জন্য কোনো দালালের প্রয়োজন হয় না।

ট্রাভেল হিস্ট্রি ও নগদ ফান্ড: অন-এরাইভাল ভিসায় ঝামেলামুক্ত প্রবেশ নিশ্চিতে পূর্বে কিছু দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বা ট্রাভেল হিস্ট্রি থাকা ভালো। এছাড়া বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকিংয়ের জন্য ন্যূনতম ২ থেকে ৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ মার্কিন ডলার (USD) সঙ্গে রাখতে হয়।

সেশেলসে ব্যবসা শুরু করার দুটি প্রধান পথ

সেশেলসে বিদেশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা করার দুটি পদ্ধতি রয়েছে:

আইবিসি (International Business Company): এটি মূলত আন্তর্জাতিক অফশোর ব্যবসার জন্য। সেশেলসের বাইরে আয় করলে এখানে কোনো ইনকাম ট্যাক্স, ডিভিডেন্ড বা ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হয় না। তবে আইবিসি নিয়ে সেশেলসের ভেতরের স্থানীয় বাজারে ব্যবসা করা যায় না।

লোকাল কোম্পানি (Domestic Business): সেশেলসের স্থানীয় বাজারে ব্যবসা করে স্থায়ীভাবে বাস করতে চাইলে এই পথটিই নির্বাচন করতে হবে। এটি মধ্যবিত্ত উদ্যোক্তাদের জন্য স্থায়ী বসবাসের মূল পথ।

কোম্পানি নিবন্ধন ও ব্যবসা স্থাপনের ধাপসমূহ

সেশেলসে লোকাল কোম্পানি খুলে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়াটি বেশ গুছানো:

এসআইবি (SIB) অনুমোদন: ভিক্টোরিয়া শহরে অবস্থিত সেশেলস ইনভেস্টমেন্ট বোর্ডে (SIB) ব্যবসার প্রস্তাবনা বা বিজনেস প্ল্যান জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হয়। বিজনেস প্ল্যানে ব্যবসার ধরন, প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ, স্থানীয় কর্মী নিয়োগের সংখ্যা এবং দেশের অর্থনীতিতে ব্যবসার অবদান উল্লেখ করতে হয়।

কোম্পানি নিবন্ধন: SIB-এর অনুমোদন পাওয়ার পর ‘রেজিস্ট্রার অব কোম্পানিজ’-এ আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস: মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন, পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের সত্যায়িত পাসপোর্ট কপি, ঠিকানার প্রমাণ ও কেওয়াইসি (KYC) নথি।

ডিরেক্টর ও শেয়ারহোল্ডার: মাত্র ১ জন ডিরেক্টর ও ১ জন শেয়ারহোল্ডার দিয়ে কোম্পানি নিবন্ধন করা যায় (একই ব্যক্তি দুটি পদ হোল্ড করতে পারেন এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এতে কোনো বাধা নেই)। নিবন্ধন হতে সময় লাগে মাত্র ১-২ কার্যদিবস।

রেজিস্ট্রেশন ফি: সোলে প্রোপ্রাইটরশিপের নিবন্ধন ফি ১২ মার্কিন ডলার। লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানির ক্ষেত্রে মূলধন ২,০০০ ডলারের নিচে হলে ফি ১৫০ মার্কিন ডলার। তবে কোম্পানিতে সেশেলসের একজন লিগ্যাল এজেন্টের মাধ্যমে রেজিস্টার্ড অ্যাড্রেস নিতে হয়, যার ফি আলাদা যুক্ত হয়।

ওয়ার্ক পারমিট (GOP) ও বৈধ বসবাসের নিয়মাবলী

জিওপি (Gainful Occupation Permit): সেশেলসে কোম্পানি খুলে কাজ করা বা ব্যবসা চালানোর জন্য জিওপি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

প্রয়োজনীয় নথি: জিওপি আবেদন ফর্ম, পাসপোর্টের কপি, SIB অনুমোদনপত্র, কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, বিজনেস প্ল্যান, ছবি, মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং ব্যাংক সিকিউরিটি বন্ড।

ফি ও সময়সূচী: প্রসেসিং ফি ১,৬০০ সেশেলস রুপি এবং প্রতি মাসের ফি ১,০০০ সেশেলস রুপি (বাংলাদেশি টাকায় মাসে প্রায় ৯,০০০ টাকা)। আবেদন প্রসেস হতে সময় লাগে ৩ থেকে ৯ কার্যদিবস।

লেবার মার্কেট টেস্টিং: জিওপি আবেদনের আগে স্থানীয় সেশেলিজ পত্রিকায় ২ থেকে ৪ সপ্তাহের জন্য পদের বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়, যাতে প্রমাণিত হয় ওই পদে কোনো স্থানীয় কর্মী পাওয়া যায়নি।

বসবাসের শর্ত: প্রতি ১২ মাসে অন্তত ৫ দিন সেশেলসে অবস্থান করতে হয় এবং চিফ ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে ন্যূনতম ২০,০০০ সেশেলস রুপির ব্যাংক গ্যারান্টি জমা রাখতে হয়।

লাভজনক ব্যবসায়িক খাতসমূহ

সেশেলসের অর্থনীতি মূলত পর্যটননির্ভর। প্রধান লাভজনক খাতগুলো হলো:

ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি: লাক্সারি হোটেল, ওয়েলনেস রিসোর্ট এবং অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে প্রচুর সুযোগ রয়েছে।

সার্টিফাইড হালাল ফুড: বর্তমানে পুরো সেশেলসে মাত্র ১টি অফিশিয়াল সার্টিফাইড হালাল ফুড আউটলেট রয়েছে। বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সার্টিফাইড হালাল রেস্তোরাঁ চালু করা এক বিশাল শূন্যতা পূরণের সুযোগ।

রিনিউয়েবল এনার্জি ও আইসিটি: সোলার/উইন্ড এনার্জি, ফিনটেক ও ই-কমার্স খাতে সরকারি ট্যাক্স ইনসেন্টিভ ও সহায়তা দেওয়া হয়।

অর্থায়নের বাস্তবতা: স্থানীয় ব্যাংকগুলো নতুন ব্যবসায় সহজে ঋণ দেয় না, তাই নিজস্ব মূলধন নিয়ে যাওয়া ভালো পরিকল্পনা।

প্রাথমিক খরচ ও বাজেট বিশ্লেষণ

সেশেলসে ব্যবসা শুরু করে প্রথম দিকে সেটেল হওয়ার জন্য ন্যূনতম ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মূলধন থাকা আবশ্যক। আনুমানিক খরচের হিসাব:

রিটার্ন এয়ার টিকিট: ১.৪০ লাখ থেকে ২.১০ লাখ টাকা (ব্যবসা ও পারমিট নিশ্চিত হলে টিকিটের টাকা এজেন্টের মাধ্যমে রিফান্ড নেওয়া সম্ভব)।

কোম্পানি নিবন্ধন ফি: ১৫০-২০০ ডলার (প্রায় ১৭,০০০ – ২৩,০০০ টাকা)।

রেজিস্টার্ড এজেন্ট/অ্যাটর্নি ফি: বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫৭,০০০ – ১,১৫,০০০ টাকা।

জিওপি প্রসেসিং ও প্রথম বছরের ফি: প্রসেসিং ফি ১,৬০০ রুপি এবং ১ বছরের মান্থলি ফি মিলিয়ে প্রায় ৮৫,০০০ টাকা।

ব্যাংক গ্যারান্টি: প্রায় ১.৮০ লাখ টাকা।

মেডিকেল ও প্রথম মাসের থাকা-খাওয়া: প্রায় ৬০,০০০ থেকে ৯৫,০০০ টাকা।

প্রাথমিক ব্যবসার মূলধন: ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা বা তার বেশি।

পাঁচ বছরে পিআর (PR) ও নাগরিকত্বের নিয়মাবলী

পিআর লাভের পথ: সেশেলসে শুধু ৫ বছর থাকলেই পিআর পাওয়া যায় না; ৫ বছর বৈধ বসবাসের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি বা সমাজে ‘উল্লেখযোগ্য অবদান’ প্রমাণ করতে হয়।

অবদানের প্রমাণ: স্থানীয় সেশেলিজ কর্মী নিয়োগ দেওয়া, নিয়মিত ট্যাক্স প্রদান করা, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে (যেমন: হালাল ফুড, পর্যটন) সেবা দেওয়া এবং ব্যবসার প্রবৃদ্ধি দেখানোই হলো উল্লেখযোগ্য অবদান।

পিআর সুবিধা: সরকারি অনুমোদনে ৫০% ছাড় পেয়ে জমি বা আবাসিক সম্পত্তি কেনা যায় এবং কাজের জন্য আর আলাদা জিওপির প্রয়োজন হয় না।

নাগরিকত্ব: স্ট্যান্ডার্ড নিয়মে ১৫ বছর সেশেলসে বসবাসের পর এবং ‘সিটিজেনশিপ কোয়ালিফাইং এক্সামিনেশন’-এ উত্তীর্ণ হয়ে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। এর প্রসেসিং ফি ৭৩ ডলার ও রেজিস্ট্রেশন ফি ১,১০০ ডলার (প্রায় ১.২০ লাখ টাকা)।

যা মনে রাখা উচিত

দালাল চক্র হতে সাবধান: সেশেলসের অন-এরাইভাল বা ব্যবসার জন্য কোনো এজেন্টের প্রয়োজন নেই; অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (ics.gov.sc) থেকে নিজে নিজেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।

টুরিস্ট ভিসায় কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: অন-এরাইভাল বা টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কোনো কাজ বা ব্যবসা চালানো আইনত দণ্ডনীয়। নিয়ম ভাঙলে সরাসরি ডিপোর্ট ও ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে।

ধৈর্য ও সঠিক পরিকল্পনা: পিআর পেতে ৫ বছর ও নাগরিকত্বে ১১ বছর সময় লাগে, তাই এটি রাতারাতি কোনো অলৌকিক সমাধান নয়।

আইন যাচাই: ইমিগ্রেশন আইন যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের পূর্বে অবশ্যই ics.gov.sc ও sib.gov.sc ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ নিয়মাবলী যাচাই করে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

জরুরি সতর্কতা

বাংলাদেশে থাকতেই SIB-তে ইমেইলের মাধ্যমে বিজনেস প্ল্যান পাঠিয়ে প্রাইমারি অনুমোদন নিন। দোকান বা অফিসের ভাড়া চুক্তিতে ‘জিওপি অনুমোদন না হলে চুক্তি বাতিল’ শর্ত যুক্ত রাখুন। হালাল ব্যবসার ক্ষেত্রে সেহা (SEHA – Seychelles Halal Association) সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন। প্রতি বছরের ট্যাক্স ও জিওপি রিনিউয়ালের নথি সযত্নে ফাইলে বা গুগলে ড্রাইভ ব্যাকআপ রাখুন। এছাড়াও জিওপি ছাড়া একদিনও কাজ করা যাবে না, কারণ ধরা পড়লে জরিমানাসহ দেশ থেকে ডিপোর্ট করা হতে পারে। অন্যদিকে ভুয়া বা পেপার কোম্পানি খুললে ইমিগ্রেশন পারমিট বাতিল করা হবে।

তানজিল আহমেদ জনি/ প্রবাস/ ১০ জানুয়ারী ২০২৬

You may also like...