‘শাকিব খানের জন্য অন্যরা ডার্ক পলিটিক্সের শিকার কেন হবে?’: কামরুল হাসান দর্পণ
এফডিসি-কেন্দ্রিক ধারার পতন, অনুদান প্রথা, ভারতীয় সিনেমা আমদানি ও যৌথ প্রযোজনার সংকট নিয়ে ট্রেন্ডিরিডারডটকমের তানজিল আহমেদ জনির মুখোমুখি হয়েছেন বাচসাস সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ। এতে উঠে এসেছে পেশাদার সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ, রাজনীতিতে তারকাদের ভূমিকা এবং সিনেমার বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: বাংলাদেশে সিনেমা রিভিউ লেখার সংস্কৃতি ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হলো কেন?
কামরুল হাসান দর্পণ: এর উত্তর একটু অতীত টেনে বলতে হবে। পাকিস্তান আমলে ৬০-৭০ এর দশকে যখন সিনেমা তৈরি হতো, তখন অল্প অল্প বাংলা সিনেমা স্বাধীনতার আগে থেকেই নির্মাণ করা হতো। সেই সময়ে নির্মিত সিনেমাগুলো নিয়ে আমাদের তখনকার প্রভাবশালী ও মেধাবী সাংবাদিকরা সমালোচনা করতেন। যা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশেও চলমান ছিল। এমনকি আমি নিজেও একসময় সিনেমার সমালোচনা করেছি। কিন্তু এখন প্রযুক্তির জোয়ারের সময়ে এবং একইসঙ্গে আমাদের সিনেমা শিল্পের যে দৈন্যদশা চলছে, তাতে এখন তো আর আগের মতো সিনেমা তৈরি হচ্ছে না। যদিও মাঝে মাঝে কিছু ভালো সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে—আকাশ সংস্কৃতি হোক কিংবা ইন্টারনেট সংস্কৃতি, আমাদের দর্শকদের হাতে এখন পুরো পৃথিবীর সংস্কৃতির তথ্যভাণ্ডার রয়েছে। ফলে তারা হলিউড, বলিউড বা বিভিন্ন দেশের সিনেমা উপভোগ করছে। কারণ সব সিনেমা পাওয়া যাচ্ছে নেটফ্লিক্স কিংবা অন্যান্য জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোতে।
অন্যদিকে আমাদের দেশে মেইনস্ট্রিম যে সিনেমা বলা হয়, যেটা বিএফডিসি-কেন্দ্রিক সিনেমা—সেটা নাই বললেই চলে; অর্থাৎ এফডিসি থেকে সিনেমাটা বের হয়ে গেছে। বের হয়ে বিকল্প একটা প্যারালাল সিনেমার লাইন গড়ে উঠেছে।
সেখান থেকে হয়তো কিছু সিনেমা হয়, কিছু ভালো সিনেমা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের সিনেমা যে কমে গেল, আসলে ফিল্ম ক্রিটিকের চেয়ে এখন ‘আমাদের সিনেমা কেন কমে গেল?’, ‘এখানে সমস্যাটা কোথায়?’, ‘কীভাবে সিনেমা বাড়ানো যায়?’—এগুলো নিয়ে আসলে চিন্তা করা উচিত, পরিকল্পনা করা উচিত। এই ফিল্ডের সাংবাদিক যারা আছে, তাদের এটা নিয়ে লেখালেখি করা উচিত এবং যারা আমাদের চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ আছেন, বোদ্ধা আছেন, ফিল্মমেকার আছেন—তাদের সাথে কথা বলা উচিত। বাংলাদেশের একসময় সমৃদ্ধ সিনেমা শিল্প, যেখানে বছরে ১০০টির মতো সিনেমা হতো, প্রতি সপ্তাহে ন্যূনতম দুটি সিনেমা রিলিজ হতো—সেই অবস্থা থেকে পতন হলো কেন? এই অবস্থা থেকে সিনেমা শিল্পকে আবার রিভাইভ করার জন্য কী করা যেতে পারে, সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে তাদের অবস্থান ও দিকনির্দেশনাগুলো প্রকাশ করা দরকার।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: সিনেমা নির্মাণের জন্য অনুদানের প্রতিদান আমরা আসলে কী পেলাম?
কামরুল হাসান দর্পণ: সিনেমার জন্য সরকার অনুদান দেয় এবং অনুদানের পরিমাণ যদিও বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু এখনকার সময়ে টেকনোলজির উন্নতির জন্য ও টেকনিক্যালি সাউন্ড একটা সিনেমা মেকিং করতে গেলে যে পরিমাণ বাজেট প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে যে অনুদান দেয়া হয়, সেই অনুদানে এই সময়ে এসে একটা সিনেমা সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব না। কারণ এই সময়ের উপযোগী করে একটা সিনেমা নির্মাণ করতে হলে অন্তত আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা লাগে। সেক্ষেত্রে অনুদানের টাকা কিছুটা সহায়ক হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে শুধুমাত্র ৭৫ লাখ বা ৯০ লাখ টাকা দিয়ে একটা ভালো মানের সিনেমা হয় না। সরকারকে একটা ভালো অনুদান দিতে হবে। সরকারের দিক থেকেও হয়তো কিছু লিমিটেশন আছে, লিমিটেশনের কারণে হয়তো সরকার এটা বাড়াচ্ছে না।
অন্যদিকে অনুদানের বিষয়ে বিভিন্ন সময় অনেকের অভিযোগও শোনা গেছে—সিনেমা নির্মাণ করে না বা অর্থ লোপাট করে, অতীতে এই ধরনের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও একটা নিয়ম আছে, একটা সিনেমা নির্মাণের সময় কয়েকটি ধাপে অনুদানের টাকা ছাড় করাতে হয়। সেই প্রেক্ষাপটে যদি চিন্তা করা হয়, ৭৫ বা ৯০ লাখ টাকা দিয়ে একটা সিনেমার হয়তো অর্ধেক তৈরি হলো, বাকি অর্ধেক টাকার সংকটে তৈরি হলো না। অথচ ভিন্ন চিত্রও কিন্তু রয়েছে; এখনকার সময়ে ৪০-৪৫ লাখ টাকা খরচ করে ইউটিউবের জন্য কাজ নির্মাণ হচ্ছে। যদিও একটা সময় ছিল যখন ৯০ লাখ, ৮০ লাখ, ৭৫ লাখ, ৬০ লাখ—এমনকি ৪০ লাখ টাকায় সিনেমা নির্মাণ হয়েছে এবং সেগুলি ব্যবসা করেছে, ব্যবসা সফলও হয়েছে।
এখন অনুদানের প্রতিদানের কথাটা বললে—অনুদানের প্রতিদান চাইতে হলে এখানে অনেকগুলি ব্যাপার আছে। সরকারকে আগে দেখতে হবে যে সিনেমার অবকাঠামো ও টেকনিক্যাল সাপোর্টটা কতটুকু আছে? আমি যে একটা হলিউড বা বলিউডের টাইপের সিনেমা বানাবো, সেই সাপোর্টটা আমার এখানে সরকারিভাবে বিএফডিসির টেকনিক্যাল সাপোর্ট কতটুকু আছে? সারা বিশ্বে প্রযুক্তি বহু দূর এগিয়ে গেছে, প্রতিনিয়ত যাচ্ছে। অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বিবেচনা করলে অনুদানের টাকা এত কম মনে হতো না। বর্তমান সময়ে অনুদানের টাকায় যদি পুরো একটা সিনেমা ভালোমতো শেষ করতে হয়, তাহলে অন্তত আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা লাগবে। যদিও এটা চূড়ান্ত সীমা নয়, কারণ ভালো সিনেমার বাজেটের সীমা নেই।
সরকার ফিল্মকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য অনুদান দিচ্ছে, কিন্তু সরকার হয়তো কারিগরি অবকাঠামোর বিষয়গুলোয় নজর দিচ্ছে না। আসলে অনুদানটা বড় বিষয় না, আগে তো অনুদান ছাড়াই আমাদের যারা ফিল্মমেকার ছিলেন, তারা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে সিনেমা নির্মাণ করেছেন। এখন আমাদের সেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিটাই নাই, ফিল্মের কিছু কি আছে? নাই।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: একটা সময় তো আমাদের সিনেমা শিল্পে একটা ইকোসিস্টেম ছিল। সেটা নষ্ট হয়ে গেল কেন?
কামরুল হাসান দর্পণ: পরিচালক সমিতিতে কিছু ডিরেক্টর পাবে, যারা একসময় বাংলাদেশে অনেক সুপার-ডুপার হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন, ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন; কিন্তু তারা এখন বেকার হয়ে বসে আছেন। তাদের হাতে সিনেমা নির্মাণের কাজ নেই। গল্প-গুজব করেন, স্মৃতিচারণ করেন।
একসময়ের দাপুটে যে পরিচালকরা আমাদের সুপার-ডুপার হিট সিনেমা দিয়েছেন, তারা এই সময়ে এসে অচল হয়ে গেলেন কেন? তারা সিনেমা করতে পারছেন না কেন? তারা পারছেন না এই কারণে—তারা সময়ের সাথে তাল মেলাতে পারছেন না। ফিল্মের যে ধরন, গল্প বলার ধরন, টেকনোলজি—সব বদলে গেছে। তারা অ্যানালগ যুগে সিনেমা নির্মাণ করেছেন। অ্যানালগ যুগের প্রযুক্তিতে তারা দক্ষ থাকলেও যখন ডিজিটাইজেশন শুরু হলো, তখনই তারা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সেই দৌড়ে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারেন নাই। ফলে তারা মেধাবী নির্মাতা হলেও তাদের জ্ঞানটা প্রযুক্তির সাথে দৌড়াতে পারে নাই বলেই তারা পিছিয়ে গেছেন। এখন যদি তাদেরকে বলা হয়—‘আমি উন্নত প্রযুক্তির এই সময়ের একটা সিনেমা বানাব, সেজন্য ১০০ কোটি টাকা দেব’, তাহলেও এরা পারবেন না। কারণ প্রযুক্তির ওই জ্ঞানটা তো নাই। টাকাটা ইউজ করতে হবে তো! কোথায় ইউজ করবেন, কীভাবে ইউজ করতে হবে—টেকনোলজি সম্বন্ধে সেই আইডিয়াটা থাকতে হবে তো! কিন্তু তাদেরকে আবার ওই পুরনো দিনের সিনেমা বানাতে বললে, তারা বানিয়ে ফেলতে পারবেন। এই যে গ্যাপটা তৈরি হয়েছে, এটা তারা পূরণ করতে পারেন নাই বলেই তারা আজকে বেকার হয়ে বসে গেছেন। তবে তারা মোটেও মেধাহীন নন, বরং তারা তাদের সময়ের সেরা মেধাবী ছিলেন।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: আমাদের সিনেমা শিল্প কি এআই গ্রহণের জন্য প্রস্তুত আছে?
কামরুল হাসান দর্পণ: আমাদের ফিল্ম না, সারা বিশ্বের সবাই এআই নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ এআই সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে ফেলছে। এখন ফিল্মের ক্ষেত্রে যদি ধরি—এআই দিয়ে নির্মিত বিভিন্ন ফিল্মগুলো আমি ইন্টারনেটে নিয়মিত দেখছি। এ পর্যন্ত আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি যা দেখেছি, এই ফিল্মগুলোতে এআই দিয়ে বানানো অ্যাভাটারগুলোর অভিনয় হয় রোবোটিক; সেখানে রক্তমাংসের মানুষের ন্যাচারাল রিফ্লেকশন পাওয়া যায় না। এখানে উন্নত প্রযুক্তির সবকিছু দেখানো যেতে পারে, কিন্তু ওই ক্যারেক্টারগুলো বা অ্যাভাটারগুলো মানুষের মতো আচরণ করতে পারে না, পারবেও না। অনেক ক্ষেত্রে এআই-নির্মিত সিনেমাগুলো কার্টুনের মতো, রোবোটিক মনে হয়—জাস্ট লাইক থ্রিডি কার্টুন মুভি যেরকম হয়, এরকম আমার কাছে মনে হয়েছে। ভিএফএক্স-এর যুগ থেকে এখন এআই যুগে আমরা এসেছি, আমি জানি না ইন ফিউচারে কী হবে। তবে আমার এটা বিশ্বাস যে রক্তমাংসের মানুষের অভিনয় এআই দিয়ে কোনোদিন সম্ভব হবে না।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: সিটিজেন জার্নালিজমের কারণে আমাদের পেশাদার সাংবাদিকতা কি হুমকির মুখে পড়েছে?
কামরুল হাসান দর্পণ: মিডিয়ার এক্সপানশন হচ্ছে, এটা তো অস্বীকার করার কোনো কারণ নাই। তবে একটা জিনিস সবাইকে মনে রাখতে হবে—সিটিজেন জার্নালিজম এবং প্রফেশনাল জার্নালিজম, দুইটার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। একজন প্রফেশনাল জার্নালিস্ট দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কাজ করার মাধ্যমে, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে গড়ে ওঠেন। অন্যদিকে একজন সিটিজেন জার্নালিস্ট যেকোনো দুর্ঘটনার মুহূর্তে পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করে ইন্টারনেটে আপলোড করে দিলেন। কিন্তু তাকে যদি একটা প্রপার প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়, সেটা সেই ব্যক্তি পারবেন না; কিন্তু এক্ষেত্রে একজন পেশাদার প্রিন্ট, অনলাইন বা টেলিভিশনের সাংবাদিক পারবেন।
অন্যদিকে সাংবাদিকতার কিছু এথিক্যাল বিষয় আছে—আমি কোনটা লিখব, কোনটা লিখব না; কোনটা পাঠক-দর্শকদের জন্য তুলে ধরব, কোনটা তুলে ধরব না—এটার একটা এডিটোরিয়াল সেন্স এখানে আছে। এতে সেলফ-সেন্সরশিপ যেমন আছে, তেমনি এডিটোরিয়াল বোর্ড যারা লেখাগুলো দেখবে, রিপোর্টগুলো দেখবে, এডিট করবে—তারা সেটাকে আরও ফার্নিশ করে তুলে ধরে। কিন্তু সিটিজেন জার্নালিজমে তো এটা নাই। কেউ একজন যেকোনো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তার নিজের ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকের প্রোফাইলে ইচ্ছেমতো একটা ক্যাপশন দিয়ে আপলোড করে দিল। হুমকির কথা বলতে গেলে—পেশাদার সাংবাদিকতা সবসময় টিকে থাকবে। একসময় প্রিন্ট ছিল, পরে অনলাইন আসলো, সামনে আরও নতুন নতুন মাধ্যম আসবে।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: সম্প্রতি বাচসাস গুণীজন সংবর্ধনা দিয়েছে। প্রথমবারের মতো এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন নিয়ে কেন বাচসাস আগ্রহী হলো?
কামরুল হাসান দর্পণ: আমরা চাই আমাদের সংগঠনের গুণীদের সকলের সামনে তুলে ধরতে। এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো—আমাদের যে গুণীরা দেশসেরা কবি ও গীতিকার, তারা যে আমাদের বাচসাস সংগঠনের সদস্য, এটা আমাদের সকলকে জানানো দরকার। কারণ আমরা সাংবাদিকরা সবসময় মিডিয়ার লোকজনদের সবার কাছে তুলে ধরি, তাদেরকে পুরস্কৃত করি; কিন্তু আমাদের ঘরেও যে এত গুণী লোক আছে, যারা অন্য জায়গা থেকে পুরস্কার পায়—তাদেরকে আমরা আমাদের ঘর থেকে সম্মানিত করছি। মূল উদ্দেশ্য হলো, আমাদের ঘরের লোককে আগে সম্মানিত করতে হবে। মূলত এই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য থেকেই গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: কিন্তু এই আয়োজনে স্বজনপ্রীতি হয়েছে এমন গুঞ্জন শোনা গেছে, এ ব্যাপারে আপনার অবস্থান কী?
কামরুল হাসান দর্পণ: যেকোনো কাজ করতে গেলে সেটার একটা রিঅ্যাকশন হয়। কিছু পজিটিভ রিঅ্যাকশন হবে, কিছু নেগেটিভ রিঅ্যাকশন হবে—এটা সর্বক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। এখন দেখতে হবে যে রিঅ্যাকশনটার পজিটিভনেস কতটুকু আর নেগেটিভনেস কতটুকু; কারা সমালোচনা করছে আর কারা প্রশংসা করছে, অ্যাপ্রিশিয়েট করছে। আমাদের সংগঠনে অনেক গুণী কবি, গীতিকার, গীতিকবি, নাট্যকার, পরিচালক, প্রডিউসার—এমনকি গায়কও আছেন, যারা আমাদের সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনে সুপরিচিত গুণীজন। এই আয়োজনে আমরা স্বজনপ্রীতি করতে যাব কেন? এরা প্রত্যেকেই আমাদের সংগঠনের নিজেদের লোক। আমরা তো আমাদের গুণীজনদেরই সম্মাননার জন্য এই আয়োজন করেছি। তবে এর মধ্যে যে কিছু ভুল হয়নি—তা তো নয়। ভুল হয়েছে, যেমন—দুই-একজন বাদ পড়ে গেছেন এবং তা আমাদের জানার বাইরে ছিল। এজন্য আমরা অনুষ্ঠানের সময়ই ঘোষণাও দিয়েছি যে, আমরা পরবর্তীতে আবার এ ধরনের অনুষ্ঠান করব, এটাই শেষ নয়। তবে যারা এই আয়োজনের সমালোচনা করেছেন, আমি তাদেরও অ্যাপ্রিশিয়েট করি। এটা তাদের অধিকার। তবে শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা করলে তো হবে না, ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে হবে। আমরা সবাই তো বাচসাস পরিবারেরই সদস্য।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: আয়োজনের স্বচ্ছতার জন্য আয়োজক কমিটির ক্রাইটেরিয়া কী ছিল?
কামরুল হাসান দর্পণ: স্বচ্ছতার জন্য আমাদের একটা ক্রাইটেরিয়া ছিল—আমাদের বাচসাস সংগঠনের সদস্য ও কবি, যার অন্তত তিনটা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এই তিনটা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত থাকলে তারা এখানে এলিজিবল। আর যেসব গীতিকার আছেন, যাদের অন্তত ৫০টি গান প্রকাশিত হয়েছে—সেটা যে মাধ্যমেই হোক; সিনেমা, টেলিভিশন, অডিও, ভিডিও যেখানেই হোক না কেন।
জীবনে দুই লাইন কবিতা লেখে নাই এমন মানুষ খুব কম আছে। আমাদের সাংবাদিকদের মধ্যেও এরকম আছে। আমি নিজেও কবি, আমিও লিখেছি; কিন্তু আমার কোনো কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। আর গীতিকার আমিও, একটা গান আমিও লিখেছি। এখন আমরা যদি এই ক্রাইটেরিয়াটা না করি, তাহলে দেখা যাবে যে আমাদের এই প্রোগ্রামটা অনেক বড় হয়ে যাবে। আমাদের তো আর্থিক সীমাবদ্ধতাও আছে। আসলে মানুষ যারা সমালোচনা করে, তারা কিন্তু ওই বিষয়টা চিন্তা করে না। এই যে অনুষ্ঠানটা আয়োজন করা হচ্ছে, কীভাবে আয়োজন করা হচ্ছে, এটার পেছনে কতটা শ্রম ও কতটা কষ্ট রয়েছে—যারা আয়োজন করছে তাদেরকে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে!
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: বাচসাস নির্বাচন একটি প্রভাবশালী বেসরকারি টেলিভিশনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, এটা কী সত্যি?
কামরুল হাসান দর্পণ: এটা সত্যি না। অভিযোগ অনেকেই করতে পারে, তুমিও করতে পারো, কোনো সমস্যা নাই। আমি তোমাকে বেশি পছন্দ করি, আরও দুজনকে পছন্দ করি—এখন এটাকে যদি কেউ পারশিয়ালিটি বলে, তবে আমার কিছু বলার নাই। ইলেকশন হচ্ছে একটা সম্মিলিত বিষয়, যা কোনো একক হাউস বা কোনো একটি চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে—এটা হয় না। আমাদের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৪৫০ জন।
এখন একটা প্রতিষ্ঠানে ধরে নেওয়া যাক ২০-২৫ জন ভোটার রয়েছে। সেই ভোটার দিয়ে কি সংগঠনের বাকি ৪০০ ভোটারকে নিয়ন্ত্রণ করা একটা হাউস বা কোনো চ্যানেলের পক্ষে সম্ভব? এটা কখনো হয় না।
এটা বলতে পারো যে, কোনো হাউসে ভোটার সংখ্যা বেশি কিংবা ফিক্সড ভোটব্যাংক আছে। এটা যেকেউ বলতেই পারে—কোন হাউসে কম, কোন হাউসে বেশি ভোটার আছে। টোটাল সব মিলিয়ে তো ৪৫০ ভোট হলো, কিন্তু বাস্তবে ভোট হলো একটা ডিপ্লোমেটিক ব্যাপার।
ভোট চাওয়ার ব্যাপার, কোনো হাউস ভোটারদের কনভিন্স করবে বা নিয়ন্ত্রণ করবে—এগুলো হলো বোগাস কথা! আর কেউ যদি বলে থাকে যে, ‘আমি ১০০ ভোট নিয়ন্ত্রণ করি’, সেটাও একদম বোগাস কথা। তার নিজের ভোটটা ছাড়া আর কারও ভোট ফিক্সড থাকে না।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: সাংবাদিক সংগঠনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
কামরুল হাসান দর্পণ: বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন আমার কোনোভাবেই পছন্দ না; সেটা প্রেস ক্লাব হোক কিংবা ডিআরইউ হোক। আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনে হেরে যেতে পারি—হয়তো ৫০ ভোটে বা ১০০ ভোটে বা ২০ ভোটে হারলাম, কিন্তু যেসব মানুষ আমাকে ভোটটা দিল, যদিও আমি ফেল করেছি, কিন্তু আমাকে তো কিছু মানুষ ভোট দিয়েছে! তাদের যে ভালোবাসা আমার প্রতি, আমি তো এটার অবমূল্যায়ন করতে পারি না। আমি ফেল করি, অসুবিধা নাই; কিন্তু বিনা ভোটে বিজয়ী হলে তো আমি এই মানুষগুলোর ভালোবাসা পেতাম না। আমি যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ফেল করি, তাহলে তো আমি বুঝতে পারলাম যে কিছু মানুষ আমাকে ভালোবাসে। অন্যদিকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমি বুঝতেই পারলাম না যে আমার গ্রহণযোগ্যতাটা কতটুকু! কাজেই বিনা ভোটে পাস করা—এটা আমার কখনোই পছন্দ না। তবে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনও একটা ডেমোক্রেটিক প্রসেস, কারণ সেখানে কোনো দ্বিতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে না।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: ঢাকাই সিনেমায় শাকিব খানকে টিকিয়ে রাখার জন্য একটা সিন্ডিকেট কাজ করে, যাদের জন্য তরুণ অভিনেতারা একটা ডার্ক পলিটিক্সের শিকার হচ্ছে—আপনি কি এই বিষয়ে একমত?
কামরুল হাসান দর্পণ: শাকিব খানের জন্য অন্যরা ডার্ক পলিটিক্সের শিকার কেন হবে? শাকিব খান তাঁর নিজের যোগ্যতা দিয়ে আজকের এ পর্যন্ত অবস্থানে এসেছেন। কেউ কারও অবস্থান গড়ে দেয় না, নিজের চেষ্টা লাগে। এখন যারা নতুন আছে, তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে নিজেদের যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করবে। শাকিবের সাথে তো তুলনা করার দরকার নাই। আরেকটা বিষয় হচ্ছে—পৃথিবীর সব ইন্ডাস্ট্রিতেই পলিটিক্স আছে। বলিউডে পলিটিক্স আছে, হলিউডেও আছে, এটা থাকবেই। কথাটা হচ্ছে, দিন শেষে নিজের যোগ্যতাটা প্রমাণ করে এগোতে হবে। যদি দর্শকের কাছে কারও গ্রহণযোগ্যতা থাকে, তবে এক শাকিব কেন, ১০ শাকিবও তাঁকে আটকাতে পারবে না! আর যদি দর্শকের কাছে কারও গ্রহণযোগ্যতা না থাকে, সেক্ষেত্রে শাকিবের কিছু করার নাই। তবে সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারটা আছে। একজন খুব ভালো নির্মাতা যদি নতুনদের পিক করে, এটা একটা রিস্কি ব্যাপার—এটা জুয়া খেলার মতো, লটারি খেলার মতো। আমাদের এই সময়ে তো ফিল্মই নাই; একটা-দুইটা মানে কমার্শিয়াল-বেসড। সেই ধরনের বিজনেস-বেসড সিনেমা তো শাকিব করে। এখন সেই সিনেমাটা বিজনেস করতেও পারে, আবার নাও করতে পারে। কমার্শিয়াল কিংবা ইকোনমিক্যাল ফিল্ম যেটা বলা হয়, যেখানে লগ্নিকৃত টাকা ফিরেও আসতে পারে, আবার লোকসানও হতে পারে। তারপরেও তো অনেক সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে, সেই সিনেমাগুলো সিনেমা হলেও মুক্তি পাচ্ছে, অনলাইনেও সবাই দেখছে—তো এটা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: ঢাকাই সিনেমার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে যৌথ প্রযোজনা কি আদৌ প্রয়োজন?
কামরুল হাসান দর্পণ: আগে তো নিজেরা প্রযোজনা করব। আমার মতে যৌথ প্রযোজনা কখনোই একটা ভালো জিনিস না, কারণ এটা তো তখন আমার নিজের সিনেমা থাকে না। আমার তো নিজের সিনেমাটা আগে থাকতে হবে! আমার নিজের ভিত্তিটা তো থাকতে হবে, আমার নিজের পায়ের নিচে মাটিটা থাকতে হবে। আমার পায়ের নিচে মাটি নাই, আমি যৌথ প্রযোজনা করতে যাব কী কারণে? তাহলে আমার সিনেমাটা কোথায়? এখন আমি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ-নেপাল, বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-পাকিস্তান, বাংলাদেশ-আমেরিকা নিয়ে যৌথ প্রযোজনা করছি—এটা কি আমার নিজস্ব সিনেমা হলো? এই সিনেমা তো ওদেরও; ওদেরও অংশীদারিত্ব আছে, আমারও আছে। আমার যে নিজের একক সিনেমাটা, তাহলে সেটা কোথায়? আগে তো আমার নিজের একক সিনেমার বাজারটার ভিত্তি তৈরি করতে হবে, তারপরে মন চাইলে যৌথ প্রযোজনা করা যেতে পারে। যৌথ প্রযোজনা বলিউড-হলিউড কি করে? করে না তো! কেন করে না? তারা চাইলে করতে পারে, তারপরেও করে না। কারণ প্রত্যেকের নিজস্বতা থাকতে হবে, আগে নিজস্ব ফিল্মকে রিপ্রেজেন্ট করতে হবে। যৌথ প্রযোজনাকে আমার কাছে নিজেদের সিনেমাকে খুবই অবমাননা করার বিষয় মনে হয়।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: সিনেমা হল বাঁচানোর দাবিতে বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা আমদানি করার বিষয়টা আপনি কীভাবে দেখেন?
কামরুল হাসান দর্পণ: এগুলো ভুয়া কথাবার্তা! এখানে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল আছে, কিছু হল মালিক আছে—তারা এই জিনিসটাকে পুঁজি করতে চাচ্ছে। হিন্দি সিনেমা বাংলাদেশে বহু চলেছে, বহু বছর ধরেই চলেছে। এই মধুমিতা সিনেমা হলে সপ্তাহব্যাপী হিন্দি সিনেমার উৎসব চলেছে, কিন্তু তেমন দর্শক ছিলই না। আমি পুরনো সময়ের কথা থেকে শুরু করি—ভারতের দিলীপ কুমারের ‘আন’ সিনেমা, পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী-জেবার ‘এক ফুল এক কাঁটা’র মতো অনেক সুপারহিট সিনেমা বাংলাদেশে চলেছে। তখন হিন্দি আর উর্দু সিনেমাই চলতো, কিন্তু বাংলা সিনেমার দাপটে তো সেগুলো টিকতে পারে নাই। আমদানি করে হিন্দি সিনেমা চালালেই বাজার চাঙ্গা হয়ে যাবে—বিষয়টা নট লাইক দ্যাট, এত সহজ না।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: বিগত আওয়ামী শাসনের সময় বিনোদন অঙ্গনের তারকাদের এক বিশাল অংশ সরকারি দলের রাজনৈতিক প্রভাবে চলে যান। শিল্পীদের এই রাজনৈতিক রূপান্তরকে আপনি কীভাবে দেখেন?
কামরুল হাসান দর্পণ: স্বৈরাচার সরকারের আমলে ১৭ বছরে এই রূপান্তরটা ঘটেছে এবং শিল্পীরা সরাসরি পলিটিক্সে জড়িয়েছে। পলিটিক্যাল একটা পার্টির সাথে এই নির্বাচন প্রচারণা থেকে শুরু করে—এটা খুবই দৃষ্টিকটু ছিল। আমরা যখন সাংবাদিকতা শুরু করেছি, তখনকার সময়েও মিডিয়ার কিছু লোক রাজনীতিতে জড়িত ছিল, এটা সবাই জানতো; অর্থাৎ একটা দলের আদর্শকে তারা ধারণ করে—এটা প্রকাশ্য ছিল। কিন্তু তারা কখনোই অ্যাক্টিভিস্টের মতো গিয়ে দলের কর্মসূচিতে কাজ করেনি, নির্বাচন প্রচারণায় গিয়ে অংশগ্রহণ করেনি—যেটা বিগত ১৭ বছরে ঘটেছে।
শিল্পীদের আসলে রাজনীতি করা উচিত না। কেন উচিত না? তুমি প্রশ্ন করতে পারো—তাহলে কি বিশ্বের অন্য দেশে, হলিউডে বা ভারতে শিল্পীরা রাজনীতি করছে না? হ্যাঁ, করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পও কিন্তু একজন অভিনেতা ছিলেন, তাঁর আগে রোনাল্ড রিগ্যান ছিলেন অভিনেতা, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও একজন কৌতুক অভিনেতা ছিলেন। তবে তারা অভিনয়টা ছেড়ে দিয়ে রাজনীতিতে এসেছেন। পলিটিক্স করা ডেমোক্রেটিক রাইট; একজন শিল্পী হিসেবে পলিটিক্স যেকোনো শিল্পী করতেই পারেন। কিন্তু তিনি যে শিল্পী বা তারকা হয়েছেন—কাদের ভালোবাসায় হয়েছেন? সেখানে তো শুধু একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা ছিল না, সবার সমর্থন ছিল। সেই শিল্পীর প্রতি সবার সম্মিলিত ভালোবাসায় স্টার হয়ে এখন যখন তিনি একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়বেন, তখন বাকি যেসব দর্শক আছে তারা এতে মর্মাহত হবে। কারণ ওই দর্শকরাই তো তাঁকে স্টার করে তুলেছে!
এটা তো ঠিক হয়নি। থালাপতি বিজয় কী করেছেন? তিনি ঘোষণা দিয়ে অভিনয় জগৎ থেকে বিদায় নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন। জয়ললিতাও তাই করেছিলেন। কোনো শিল্পী রাজনীতি করলে সমস্যা নাই, ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিতে চলে আসুক—কেউ তো মানা করবে না।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: বাচসাসের সভাপতি হিসেবে আপনার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণটা কি মেলাতে পেরেছেন?
কামরুল হাসান দর্পণ: এক্সপেক্টেশনের কোনো শেষ নাই। আমার তো কেবল কাজ করতেই মন চায়। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে—আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা আছে, আমাদের ইকোনমিক কন্ডিশনটা এখন একটু খারাপ আছে; ভালো হতে কিছুটা সময় লাগবে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে দেশে অর্থনীতি বলতে যা ছিল, সেই নাজুক অবস্থাটা কিন্তু এখনো কাটিয়ে উঠতে পারি নাই। আমাদের কমিটির যাত্রাটাই শুরু হয়েছিল ইকোনমিক্যালি একটা ভালনারেবল সিচুয়েশনের মধ্য দিয়ে। যারা আমাদের স্পন্সর করবে, যারা অনুদান দেবে—তারা প্রত্যেকেই শর্টেজের মধ্যে আছে। কিন্তু তারপরেও এ পর্যন্ত বহু সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমি অনেক কাজ করতে সক্ষম হয়েছি, যা অতীতের কোনো কমিটি করেছে কিনা তার ফিরিস্তি টানলেই পরিষ্কার ফুটে উঠবে। আমার সময়ে প্রথমবারের মতো বাচসাসের নিজের অফিসে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছি, যা অতীতে কখনোই হয় নাই।
দ্বিতীয়ত, বাচসাসের একটা নিজস্ব পত্রিকা থাকা দরকার—সেই চিন্তা থেকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সেটা প্রকাশিত হচ্ছে। ফলে এখন আমাদের একটা নিজস্ব পত্রিকা আছে। এই সংগঠনে ‘পরিবার দিবস’, ‘ইফতার’—এগুলো রেগুলার কাজ হলেও এর জন্য তো লক্ষ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়।
তৃতীয়ত, বাচসাসকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিএমজি অর্থাৎ চায়না মিডিয়া গ্রুপের সাথে আমাদের বাচসাসের একটা মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটা আমরা প্রথম স্বাক্ষর করি, তারপরে জাতীয় প্রেস ক্লাব স্বাক্ষর করে, তারপর ডিআরইউ যুক্ত হয়, এরপর অন্যান্য বিট-ভিত্তিক সংগঠনগুলো যুক্ত হয়। এই সিএমজি গত বছর প্রথম ‘সিল্ক রোড অ্যাওয়ার্ড’ আয়োজন করেছিল, সেটাতে আমরা কো-অর্গানাইজার ছিলাম। সেখানে আমাদের সংগঠনের তরফ থেকে জুরি বোর্ডে সদস্য ছিলেন। এ বছরও দ্বিতীয় সিল্ক রোড অ্যাওয়ার্ড আয়োজিত হবে, সেখানেও আমাদের জুরি বোর্ডের সদস্য আছে—যেখানে আমি নিজেও জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে আছি। এই নিউজগুলো চায়না থেকে শুরু করে অন্যান্য জায়গায় প্রচার হচ্ছে। বলতে গেলে আমরা অনেক ভাগ্যবান যে, আমরা ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়ে বাচসাসকে যুক্ত করতে পেরেছি, এই অ্যাফিলিয়েশনটা হয়েছে।
সর্বশেষ আমরা করলাম ‘কবিতা, পিঠা ও গান’—যার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো গভর্নমেন্ট অর্গানাইজেশনের সাথে সরকারি অর্থায়নে জয়েন্ট ভেঞ্চারে বাচসাস একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে।
ট্রেন্ডিরিডারডটকম: নতুন প্রজন্ম যারা বিনোদন সাংবাদিকতা করছে, তাদের জন্য কী পরামর্শ দেবেন?
কামরুল হাসান দর্পণ: বিনোদন সাংবাদিকতায় যারা আসে, তাদের একদিক দিয়ে বলতে হয় যে দুর্ভাগ্য। কারণ, আমাদের সিনেমা নাই। সাংবাদিকতার জায়গাটা তো লাগবে, যেখানে নতুনরা সাংবাদিকতা করবে! সিনেমার কথা যদি বলি, সিনেমা তো নাই। সাংবাদিকতার সাথে অন্য কোনো প্যারালাল বিষয়গুলো ম্যাচ করে না; সেগুলোর মাধ্যমে হয়তো কিছু প্রচার-প্রচারণা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু দেখতে হবে কোনটা স্থায়ী। একজন প্রফেশনাল সাংবাদিকের হাত দিয়ে লেখা বের হওয়া আর একজন সাধারণ মানুষ বা অন্য কারও ক্যামেরা দিয়ে রিপোর্টিং করা—দুইটার মধ্যে মেলানো সম্ভব না; তাহলে তো আর জার্নালিজম বলতে কিছু থাকবে না।
ছবি সংগ্রহ : ফেইসবুক
তানজিল আহমেদ জনি/ বিনোদন/ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
