নীল জলরাশির দ্বীপে এক খণ্ড বাংলাদেশ: প্রশান্ত মহাসাগরের স্বর্গরাজ্য ‘পালাউ’
নীল জলরাশির বুকে মুক্তোর মতো ছড়িয়ে থাকা এক রূপকথার রাজ্য ‘পালাউ’। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে প্রায় ৩৬০টি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠা মাত্র ৪৬০ বর্গকিলোমিটারের এই ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটি প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়।
সমুদ্রের স্বচ্ছ নীল পানি, সবুজের নিবিড় ছোঁয়া আর সাগরের তলদেশের রোমাঞ্চকর জগৎ দেশটিকে বিশ্বজোড়া পর্যটকদের কাছে বানিয়ে তুলেছে এক স্বপ্নের গন্তব্য।
ঐতিহাসিক দিক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে ছিল পালাউ। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে এটি। মার্কিন শাসনের প্রভাব আজও রয়ে গেছে এর অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়; দেশটির নিজস্ব মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয় মার্কিন ডলার।
২৫ হাজারের দেশে ২ হাজার বাংলাদেশি!
পালাউয়ের মোট জনসংখ্যা মাত্র ২৫ হাজারের কাছাকাছি। তবে দূরপ্রশান্তের এই ছোট্ট দ্বীপে গেলে যে কারও চমকে ওঠার মতো তথ্য হলো—এখানে বসবাস করছেন দুই হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি!
মূলত পর্যটন ভিসায় এসে পরবর্তীতে কাজের সুযোগ বা ওয়ার্ক পারমিট তৈরি করে অনেকেই এখানে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চা-কফির মতোই সুপারি খাওয়ার এক বিশেষ সংস্কৃতি রয়েছে, আর সেই সুপারি বাগানগুলোকে কেন্দ্র করে অনেকের কর্মসংস্থান গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে, পালাউয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ জলক্রীড়া ও সার্ফিং। অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী এখন সেখানে সার্ফিং প্রশিক্ষক বা গাইড হিসেবেও বেশ সুনাম ও জীবিকা অর্জন করছেন।
বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়ার উপায়
বিশ্বের অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য পালাউয়ে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ থাকলেও, বাংলাদেশি পর্যটকদের আগে থেকেই ভিসা নেওয়া বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে কোনো পালাউ দূতাবাস না থাকায় ভারতের নতুন দিল্লিতে অবস্থিত পালাউয়ের অনারারি কনস্যুলেট থেকে ভিসার আবেদন করতে হয়।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র:
- পাসপোর্ট: ন্যূনতম ১ বছর মেয়াদ এবং অন্তত একটি ফাঁকা পাতা থাকতে হবে।
- ছবি ও আবেদনপত্র: ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং পূরণকৃত ফর্ম।
- টিকিট ও হোটেল: কনফার্মড রিটার্ন টিকিট এবং হোটেল বুকিং স্লিপ,।
- আমন্ত্রণপত্র: বিশ্বস্ত কোনো ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে সংগৃহীত ইনভিটেশন লেটার। (অনলাইনে এজেন্ট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রিভিউ দেখে নেওয়া জরুরি)।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট: আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণস্বরূপ ব্যাংকে আনুমানিক ৩ লাখ টাকা থাকা নিরাপদ।
প্রথমবারে সাধারণত ৩০ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়। দেশটিতে প্রবেশের পর সর্বোচ্চ দুইবার নবায়ন করে মোট ৯০ দিন পর্যন্ত অবস্থানের সুযোগ মেলে।
ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বার্তা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা
যাঁরা পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বা ট্রাভেল হিস্ট্রি বাড়াতে চান, তাঁদের জন্য পালাউ হতে পারে চমৎকার এক পছন্দ,। তবে শুধু কাজের আশায় বা স্থায়ী হওয়ার উদ্দেশ্যে নতুনদের পক্ষে পালাউ যাওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কম জনসংখ্যার কারণে এখানকার ইমিগ্রেশন আইন অত্যন্ত শক্ত। তাই পূর্বপরিচিত কেউ না থাকলে শুধু পর্যটক হিসেবেই নীল জলের এই দেশে পা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে কিংবা সাগরের তলদেশের রঙিন জগতের সাক্ষী হতে ঘুরে আসতে পারেন প্রশান্ত মহাসাগরের এই নিভৃত স্বর্গরাজ্য থেকে।
তানজিল আহমেদ জনি/প্রবাস ডেস্ক / ২৭ জুলাই ২০২৫
